সঠিক চার্জার বেছে নেওয়া শুধু দ্রুত চার্জের বিষয় নয়, এটি আপনার ফোনের ব্যাটারির আয়ু, ডিভাইসের নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের স্থায়িত্বের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। আপনার ফোনের জন্য ভালো চার্জার কিভাবে সনাক্ত করবেন? এর সহজ উত্তর হলো ফোনের সমর্থিত ওয়াট, ভোল্টেজ, চার্জিং প্রোটোকল, সেফটি সার্টিফিকেশন, কেবলের মান এবং পণ্যের আসলত্ব একসঙ্গে যাচাই করা।অনেকেই মনে করেন যেকোনো চার্জার দিয়ে ফোন চার্জ হলেই তা ভালো।
বাস্তবে এই ধারণা ভুল। নিম্নমানের বা নকল চার্জার ফোন গরম করে, ব্যাটারির স্বাস্থ্য নষ্ট করে, চার্জিং ধীর করে এবং কখনও কখনও শর্ট সার্কিট বা পাওয়ার সার্জের ঝুঁকিও তৈরি করে। তাই চার্জার কেনার আগে শুধু দাম নয়, এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বোঝা জরুরি।
কেন সঠিক চার্জার বাছাই এত গুরুত্বপূর্ণ?
স্মার্টফোনের ব্যাটারি এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, কিন্তু একই সঙ্গে বেশি সংবেদনশীলও। আধুনিক ফোনে ফাস্ট চার্জিং, স্মার্ট পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাটারি সুরক্ষার মতো একাধিক প্রযুক্তি থাকে। আপনি যদি এমন চার্জার ব্যবহার করেন যা ফোনের সঙ্গে ঠিকমতো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাহলে ফোন নিজের সুরক্ষার জন্য চার্জের গতি কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে আপনি ভেবেছিলেন ফাস্ট চার্জ পাবেন, কিন্তু বাস্তবে পাবেন ধীর চার্জিং এবং অতিরিক্ত তাপ।
আরো পড়ুন : ফোনের স্টোরেজ খালি করার উপায় জানুন, স্লো ফোনকে আবার দ্রুত করুন।
আরও বড় সমস্যা হয় তখন, যখন চার্জারের ভেতরের সার্কিট দুর্বল বা সস্তা মানের হয়। বাইরে থেকে দেখতে ঠিকঠাক হলেও এমন চার্জার ভোল্টেজ স্থির রাখতে পারে না। এতে ব্যাটারির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারি দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়, চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে আসে এবং ফোনের পারফরম্যান্সও প্রভাবিত হয়।
আপনার ফোনের জন্য ভালো চার্জার কিভাবে সনাক্ত করবেন? প্রথমে স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে দেখুন।
চার্জার কেনার আগে আপনার ফোন কত ওয়াট পর্যন্ত চার্জ নিতে পারে, সেটি জানা সবচেয়ে জরুরি ধাপ। ধরুন, আপনার ফোন 25W ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে। সে ক্ষেত্রে 10W চার্জার নিলে চার্জ হবে, কিন্তু ধীরে হবে। আবার 65W চার্জার নিলেও সমস্যা নেই, যদি চার্জারটি মানসম্মত হয় এবং ফোন যতটুকু নিতে পারে ততটুকুই সরবরাহ করে। তাই চার্জারের মোট ওয়াটের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি ফোনের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পাওয়ার প্রোফাইল দিতে পারে কি না।
আরো পড়ুন : ফোন স্লো হলে কী করবেন? ২০২৬ সালের জন্য দ্রুত করার কার্যকর উপায়।
ফোনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বক্সের গায়ে লেখা তথ্য বা ম্যানুয়াল থেকে সমর্থিত ভোল্টেজ এবং কারেন্ট জেনে নিন। সাধারণত 5V 3A, 9V 2.77A, 11V 3A বা 20V 3.25A এর মতো প্রোফাইল দেখা যায়। আপনার ফোন যদি USB Power Delivery বা PPS সমর্থন করে, তাহলে চার্জারেও একই মানের সাপোর্ট থাকা উচিত। না হলে কাগজে বেশি ওয়াট লেখা থাকলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাবেন না।
| যাচাইয়ের বিষয় | কি দেখবেন | কেন জরুরি |
|---|---|---|
| ওয়াট | ফোনের সর্বোচ্চ চার্জিং ক্ষমতার সঙ্গে মিল | দ্রুত ও স্থিতিশীল চার্জিং নিশ্চিত করে |
| ভোল্টেজ ও কারেন্ট | চার্জারে সমর্থিত পাওয়ার প্রোফাইল | অসামঞ্জস্য থাকলে চার্জ ধীর হয় |
| চার্জিং প্রোটোকল | PD, PPS, Quick Charge বা ব্র্যান্ডভিত্তিক সাপোর্ট | ফাস্ট চার্জিং ঠিকমতো কাজ করে |
| সেফটি সুরক্ষা | ওভার ভোল্টেজ, ওভার কারেন্ট, ওভারহিট প্রোটেকশন | ফোন ও ব্যবহারকারী নিরাপদ থাকে |
| কেবল | ভালো মানের এবং প্রয়োজন হলে 5A সাপোর্ট | দুর্বল কেবল ফাস্ট চার্জ আটকে দেয় |
চার্জিং প্রোটোকল বুঝে কিনুন।
শুধু চার্জারের গায়ে ফাস্ট চার্জ লেখা থাকলেই সেটি আপনার ফোনে দ্রুত চার্জ দেবে, এমন নয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। অনেকে USB PD ব্যবহার করে, কেউ PPS, কেউ Quick Charge, আবার কিছু ব্র্যান্ড নিজস্ব প্রযুক্তি যেমন SuperVOOC বা Warp Charge ব্যবহার করে। তাই চার্জার কেনার আগে দেখতে হবে আপনার ফোন কোন প্রোটোকল সমর্থন করে।
আরো পড়ুন : ফোনের RAM বাড়ানোর উপায় বাস্তবসম্মত সেটিংস এবং নিরাপদ অপ্টিমাইজেশন গাইড।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনেক নতুন Android ফোন USB PD এবং PPS সমর্থন করে। এই ক্ষেত্রে একটি মানসম্মত PD PPS চার্জার খুব ভালো কাজ করবে। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ফোন কেবল তাদের নিজস্ব চার্জারেই সর্বোচ্চ গতিতে চার্জ হয়। ফলে তৃতীয় পক্ষের চার্জার ব্যবহার করলে ফোন চার্জ হবে ঠিকই, তবে সর্বোচ্চ গতি পাওয়া নাও যেতে পারে।
সেফটি সার্টিফিকেশন আছে কি না দেখুন।
একটি ভালো চার্জার সনাক্ত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো এর নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা। চার্জারের গায়ে বা প্যাকেজিংয়ে CE, FCC, UL, BIS বা RoHS এর মতো মানের উল্লেখ থাকতে পারে। সব লোগো সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবু এগুলো সাধারণভাবে বোঝায় যে পণ্যটি কিছু নিরাপত্তা মান মেনে তৈরি হয়েছে। তবে নকল পণ্যও অনেক সময় এসব চিহ্ন কপি করে, তাই শুধু লোগো দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না।
ভালো চার্জারে সাধারণত ওভার ভোল্টেজ প্রোটেকশন, ওভার কারেন্ট প্রোটেকশন, শর্ট সার্কিট প্রোটেকশন এবং ওভার টেম্পারেচার প্রোটেকশন থাকে। এগুলো থাকলে হঠাৎ বিদ্যুৎ ওঠানামা বা অতিরিক্ত তাপের সময় চার্জার নিজেকে এবং ফোনকে সুরক্ষা দিতে পারে। যে চার্জার এই তথ্য পরিষ্কারভাবে দেয় না, সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
নকল চার্জার চেনার ব্যবহারিক উপায়।
আপনার ফোনের জন্য ভালো চার্জার কিভাবে সনাক্ত করবেন? এর একটি বড় অংশ হলো নকল চার্জার শনাক্ত করা। নকল চার্জারের প্যাকেজিং সাধারণত হালকা, প্রিন্ট অস্পষ্ট, বানান ভুল এবং সিরিয়াল নম্বর অনুপস্থিত বা যাচাই করা যায় না। আসল চার্জারে নির্মাতার নাম, ইনপুট আউটপুট তথ্য, মডেল নম্বর এবং উৎপাদন তথ্য পরিষ্কারভাবে থাকে।
চার্জার হাতে নিলে ওজনও কিছুটা ধারণা দেয়। খুব হালকা চার্জার অনেক সময় কম মানের উপাদান দিয়ে বানানো হয়। পোর্ট ঢিলা হলে, প্লাস্টিকের জোড়া অসমান হলে, গায়ে তীব্র রাসায়নিক গন্ধ থাকলে বা চার্জ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অস্বাভাবিক গরম হলে সতর্ক হোন। এগুলো নিম্নমানের পণ্যের সাধারণ লক্ষণ।
আরো পড়ুন : Android মোবাইলের গোপন সেটিং জানুন নিরাপত্তা ব্যাটারি ও স্পিড বাড়ানোর সহজ উপায়।
যেখান থেকে কিনছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদিত বিক্রেতা, ব্র্যান্ড স্টোর বা বিশ্বস্ত অনলাইন দোকান থেকে কিনলে ঝুঁকি কমে। দাম অস্বাভাবিক কম হলে সেটি ভালো অফার নাও হতে পারে, বরং নকল বা রিফারবিশড পণ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কেবল ভালো না হলে চার্জারও ভালো কাজ করবে না।
চার্জার ভালো হলেই হবে না, কেবলও সমান জরুরি। অনেকেই পুরনো বা সস্তা কেবল দিয়ে নতুন ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করেন, তারপর অভিযোগ করেন চার্জ ধীরে হচ্ছে। বাস্তবে চার্জিং গতির বড় অংশ নির্ভর করে কেবলের গুণগত মানের ওপর। বিশেষ করে USB C to USB C কেবলে যদি উচ্চ ক্ষমতার চার্জ সমর্থন দরকার হয়, তাহলে ভালো মানের কেবল দরকার হয়। কিছু ক্ষেত্রে 5A কেবল না হলে পূর্ণ গতির চার্জই পাওয়া যায় না।
কেবলের মাথা ঢিলা হলে, তার মোটা অংশ দ্রুত ভেঙে গেলে বা চার্জ দেওয়ার সময় বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে সেটি বদলে ফেলুন। নিম্নমানের কেবল তাপ বাড়ায় এবং চার্জিং অস্থির করে। তাই চার্জার ও কেবলকে একসঙ্গে বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
GaN চার্জার কি ভালো পছন্দ।
আজকাল GaN চার্জার অনেক জনপ্রিয়। এগুলো সাধারণত আকারে ছোট, তাপ নিয়ন্ত্রণ ভালো এবং একই সঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জ করতে সুবিধাজনক। আপনি যদি ফোনের পাশাপাশি ট্যাব, ইয়ারবাড বা ল্যাপটপও চার্জ করতে চান, তাহলে মানসম্মত GaN চার্জার ভালো সমাধান হতে পারে। তবে এখানে আবারও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ব্র্যান্ড, সেফটি, প্রোটোকল এবং আসলত্ব যাচাই না করলে শুধু GaN লেখা দেখেই কিনে ফেলবেন না।
চার্জার কেনার পর কিভাবে পরীক্ষা করবেন।
নতুন চার্জার কেনার পর প্রথম কয়েকদিন ব্যবহার খেয়াল করুন। চার্জিং গতি স্বাভাবিক কি না দেখুন। ফোন চার্জের সময় অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কি না দেখুন। চার্জারের গায়ে অস্বাভাবিক তাপ, শোঁ শোঁ শব্দ বা গন্ধ পাওয়া গেলে ব্যবহার বন্ধ করুন। যদি ফোনে ফাস্ট চার্জ বা সুপার ফাস্ট চার্জ লেখা দেখানোর কথা থাকে, সেটি দেখাচ্ছে কি না খেয়াল করুন।
আরো পড়ুন : মোবাইল ফোন বৈধতা যাচাই-সতর্ক! IMEI না যাচাই করলে আপনার ফোনে লুকানো ঝুঁকি
একই সঙ্গে চার্জ দেওয়ার সময় টাচ কাজ ধীর হয়ে যায় কি না, ব্যাটারি শতাংশ অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে কি না বা চার্জ পূর্ণ হতে অস্বাভাবিক সময় নিচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। ভালো চার্জার সাধারণত স্থির, নির্ভরযোগ্য এবং পূর্বানুমানযোগ্য অভিজ্ঞতা দেয়।
সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত কোনটি।
যদি আপনি একদম ঝুঁকিমুক্ত থাকতে চান, তাহলে ফোন প্রস্তুতকারকের অফিসিয়াল চার্জার নেওয়াই সবচেয়ে সহজ পথ। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বস্ত তৃতীয় পক্ষের ব্র্যান্ড যেমন Anker, Ugreen, Belkin, Baseus বা Spigen এর মানসম্মত চার্জারও ভালো বিকল্প হতে পারে, যদি তা আপনার ফোনের চার্জিং মানের সঙ্গে মেলে। এখানে ব্র্যান্ডের সুনাম, রিভিউ, বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং পরিষ্কার স্পেসিফিকেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নোত্তর
ভালো মানের চার্জার কিভাবে বুঝবো?
ভালো মানের চার্জার বুঝতে হলে প্রথমে এর ব্র্যান্ড, সেফটি ফিচার, আউটপুট ক্ষমতা এবং বিল্ড কোয়ালিটি দেখতে হবে। চার্জারের গায়ে ইনপুট ও আউটপুট স্পষ্ট লেখা থাকলে, CE, FCC, UL, BIS বা RoHS এর মতো সেফটি স্ট্যান্ডার্ড থাকলে এবং এটি ফোনের চার্জিং প্রোটোকলের সঙ্গে মিললে সেটি সাধারণত ভালো মানের হয়। চার্জার অস্বাভাবিক গরম হলে, গন্ধ বের হলে, চার্জিং বারবার বিচ্ছিন্ন হলে বা খুব হালকা ও সস্তা মানের প্লাস্টিকের মনে হলে সেটি এড়িয়ে চলা ভালো।
ফোনের চার্জার ভালো হলে কিভাবে বুঝবো?
ফোনের চার্জার ভালো হলে চার্জিং স্থির থাকে, ফোন অতিরিক্ত গরম হয় না এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে চার্জ পূর্ণ হয়। ভালো চার্জার সাধারণত ফোনে ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করলে সেই মোডও দেখায়। চার্জ দেওয়ার সময় স্ক্রিন টাচে সমস্যা হয় না, চার্জ শতাংশ হঠাৎ লাফায় না এবং পোর্টে ঢিলা লাগে না। কয়েকদিন ব্যবহার করলেই বোঝা যায় চার্জারটি নির্ভরযোগ্য কি না।
মোবাইল চার্জারের দাম কত?
মোবাইল চার্জারের দাম ব্র্যান্ড, ওয়াট, চার্জিং প্রযুক্তি এবং এটি অরিজিনাল নাকি থার্ড পার্টি তার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে সাধারণ 10W বা 18W চার্জার প্রায় 400 থেকে 1000 টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। ভালো মানের 20W থেকে 25W চার্জার প্রায় 800 থেকে 2000 টাকার মধ্যে হতে পারে। 45W থেকে 65W ফাস্ট চার্জার সাধারণত 1500 থেকে 4000 টাকা বা তার বেশি হয়। প্রিমিয়াম GaN চার্জারের দাম আরও বেশি হতে পারে। খুব কম দামের চার্জার কিনলে নকল বা নিম্নমানের হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
20 ওয়াট নাকি 60 ওয়াট চার্জার ভালো?
কোনটি ভালো হবে তা ফোনের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে। আপনার ফোন যদি সর্বোচ্চ 20W বা 25W চার্জ নেয়, তাহলে 60W চার্জার নিলেও চার্জিং গতি খুব বেশি বাড়বে না। তবে 60W চার্জার ভালো মানের হলে ভবিষ্যতে অন্য ডিভাইসেও ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধুমাত্র বেশি ওয়াট দেখেই চার্জার ভালো বলা যায় না। ফোনের সঙ্গে সঠিক প্রোটোকল ও নিরাপত্তা মিলে গেলে তবেই সেটি ভালো পছন্দ।
চার্জার নিরাপদ কিনা কিভাবে বুঝবো?
চার্জার নিরাপদ কি না বোঝার জন্য এর ওভার ভোল্টেজ প্রোটেকশন, ওভার কারেন্ট প্রোটেকশন, শর্ট সার্কিট প্রোটেকশন এবং ওভারহিট প্রোটেকশন আছে কি না দেখতে হবে। প্যাকেটে পরিষ্কার স্পেসিফিকেশন থাকা, ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সিরিয়াল বা অথেন্টিকেশন কোড থাকা এবং ব্যবহারকালে অতিরিক্ত গরম না হওয়াও নিরাপত্তার লক্ষণ। অনুমোদিত বিক্রেতা থেকে কেনা চার্জার সাধারণত বেশি নিরাপদ।
45 ওয়াট নাকি 65 ওয়াট চার্জার ভালো?
যদি আপনার ফোন 45W পর্যন্ত সমর্থন করে, তাহলে 45W চার্জারই যথেষ্ট। 65W চার্জার খারাপ নয়, বরং এটি ল্যাপটপ, ট্যাব বা অন্য ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। তবে সস্তা 65W চার্জারের চেয়ে ভালো ব্র্যান্ডের 45W চার্জার বেশি নিরাপদ। তাই বেশি ওয়াটের চেয়ে ভালো মান, সঠিক প্রোটোকল এবং ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্যতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফোনের চার্জার খারাপ হলে কিভাবে বুঝব?
চার্জার খারাপ হলে সাধারণত ফোন ধীরে চার্জ হয়, মাঝপথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, চার্জার বা অ্যাডাপ্টার অস্বাভাবিক গরম হয় এবং কখনও ঝাঁঝালো গন্ধ বের হতে পারে। পোর্টে সংযোগ ঢিলা লাগা, চার্জিং আইকন বারবার ওঠানামা করা, চার্জ দিতে গিয়ে টাচ কাজ ধীর হওয়া বা চার্জ পূর্ণ হতে অস্বাভাবিক সময় লাগা খারাপ চার্জারের লক্ষণ।
25 ওয়াট নাকি 45 ওয়াট চার্জার ভালো?
আপনার ফোন যদি 25W পর্যন্ত সমর্থন করে, তাহলে 25W চার্জারই যথেষ্ট এবং সেটিই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। 45W চার্জার তখনই ভালো বিকল্প, যখন আপনার ফোন 45W সমর্থন করে বা আপনি ভবিষ্যতে অন্য ডিভাইসেও এটি ব্যবহার করতে চান। একই মানের দুটি চার্জারের মধ্যে ফোনের চাহিদার সঙ্গে মিল থাকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
100% চার্জ হওয়ার পরেও আপনি যদি একটি ডিভাইস প্লাগ ইন রেখে দেন তবে কী হবে?
আধুনিক ফোনে ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থাকায় 100 শতাংশ হওয়ার পর সরাসরি অতিরিক্ত চার্জ ঢোকে না। তবে ফোন চার্জারে লাগানো থাকলে ব্যাটারি মাঝে মাঝে সামান্য নেমে আবার টপ আপ হয়। এই ছোট ছোট টপ আপ এবং অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য কমাতে পারে। তাই মাঝে মাঝে সমস্যা না হলেও প্রতিদিন রাতভর গরম অবস্থায় প্লাগ ইন রাখা ভালো অভ্যাস নয়।
ফোনের চার্জ ১০০ পার হলে কি খারাপ হয়?
ফোনের চার্জ বাস্তবে 100 শতাংশের বেশি যায় না, কারণ সিস্টেম সেখানে কেটে দেয়। কিন্তু 100 শতাংশে দীর্ঘ সময় রেখে দিলে ব্যাটারির ওপর চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি ফোন গরম হয়। তাই ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে 100 শতাংশে পৌঁছে গেলে অনেকক্ষণ চার্জে রেখে না দেওয়াই ভালো।
20/80 চার্জিং এর নিয়ম কি?
20/80 চার্জিং নিয়ম বলতে বোঝায় ব্যাটারি 20 শতাংশের নিচে নামার আগে চার্জ দেওয়া এবং 80 শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে খুলে নেওয়া। এই পদ্ধতি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ওপর চাপ কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে সবসময় এই নিয়ম মানতেই হবে এমন নয়। দৈনন্দিন প্রয়োজনে 100 শতাংশ চার্জও করা যায়, কিন্তু নিয়মিত 20 থেকে 80 এর মধ্যে রাখলে ব্যাটারি ক্ষয় কিছুটা কম হতে পারে।
লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার না করলে কি আগুন ধরতে পারে?
হ্যাঁ, খুব বিরল হলেও ব্যবহার না করলেও লিথিয়াম ব্যাটারি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, যদি সেটি ফুলে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বেশি গরম জায়গায় রাখা হয় বা অনেক দিন সম্পূর্ণ চার্জ বা সম্পূর্ণ খালি অবস্থায় পড়ে থাকে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হলে ব্যাটারি প্রায় 40 থেকে 60 শতাংশ চার্জে রেখে ঠান্ডা ও শুকনা স্থানে রাখা ভালো। ক্ষতিগ্রস্ত বা ফুলে যাওয়া ব্যাটারি কখনও ব্যবহার বা চার্জ করা উচিত নয়।
চার্জার খারাপ হলে কি ফোনের ক্ষতি হয়?
হ্যাঁ, খারাপ চার্জার ফোনের ব্যাটারি, চার্জিং আইসি, পোর্ট এমনকি মাদারবোর্ডেরও ক্ষতি করতে পারে। নিম্নমানের চার্জার ভোল্টেজ স্থির রাখতে না পারলে ফোন গরম হয়, চার্জ ধীরে হয় এবং ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। অনেক সময় চার্জার খারাপ হলে স্পর্শ করলে হালকা শকও লাগতে পারে, যা নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
ফোনের চার্জার কিভাবে পরীক্ষা করব?
চার্জার পরীক্ষা করতে হলে প্রথমে এর গায়ে লেখা আউটপুট তথ্য ফোনের প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এরপর অন্য একটি ভালো কেবল দিয়ে চার্জ দিয়ে দেখুন সমস্যা থাকে কি না। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনে ফাস্ট চার্জিং দেখায় কি না, চার্জ হতে কত সময় লাগে, চার্জার অতিরিক্ত গরম হয় কি না এবং সংযোগ বারবার কেটে যায় কি না খেয়াল করুন। সম্ভব হলে USB পাওয়ার মিটার দিয়ে ভোল্টেজ ও কারেন্ট মেপে দেখা যায়। অফিসিয়াল বা নির্ভরযোগ্য সার্ভিস সেন্টারে পরীক্ষা করালে আরও নিশ্চিত হওয়া যায়।
শেষ কথা
শেষ পর্যন্ত আপনার ফোনের জন্য ভালো চার্জার কিভাবে সনাক্ত করবেন? উত্তরটি এক লাইনে বললে এমন হবে, যে চার্জার আপনার ফোনের সমর্থিত মানের সঙ্গে মেলে, নিরাপত্তা সুরক্ষা দেয়, ভালো কেবল সমর্থন করে, নকল নয় এবং বাস্তব ব্যবহারে স্থির চার্জিং দেয়, সেটিই ভালো চার্জার। শুধু কম দাম বা বেশি ওয়াট দেখে নয়, সামগ্রিক মান যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিন। এতে আপনার ফোন নিরাপদ থাকবে, ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে এবং প্রতিদিনের ব্যবহার হবে অনেক বেশি নিশ্চিন্ত।
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔